Header Ads

Header ADS

ইউটিউবিং কাদের জন্য? কখন ইউটিউবিং করবেন?

ইউটিউবে টাকা আছে, এটা এখন অনেকেরই জানা। তাই ইউটিউবিং একটি কমন ট্রেন্ড হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকেই এর পেছনে সময় ও অর্থ ব্যয় করছেন বা করার চিন্তা-ভাবনা করছেন। আজ আমি যা লিখবো তাতে অনেকের হয়তো মন খারাপ হতে পারে, আবার কারো দ্বিমতও থাকতে পারে। গঠনমুলক যে কোন আলোচনা-সমালোচনা গ্রহণযোগ্য।



ইউটিউবের বর্তমান অবস্থা কি?

বর্তমান অবস্থা জানানোর আগে আগের অবস্থা কেমন ছিলো সেটা একটু বলি। ২০১৭ এর আগ পর্যন্ত ইউটিউব ছিলো টাকার খনি। ক্রিয়েটর কম ছিলো তাই প্রতিযোগিতা ছিলোনা। আবার কপিরাইটের সমস্যা খুবই সীমিত ছিলো তাই যে যার মতো যা খুশি তাই বানিয়ে বা কপি পেষ্ট করি টাকা কামিয়ে নিয়েছে। এরপর পল লোগানের একটি ঘটনা দিয়ে পুরো ইউটিউব সিস্টেমই চেঞ্জ হয়ে যায়। এখন আর কারো কনটেন্ট বিন্দু মাত্র ছোঁয়ার সুযোগ নেই। শতশত প্রফেশনাল চলে এসেছে এখানে, বড় বড় কোম্পানীগুলো বিনিয়োগ করছে তাই হালকা-পাতলা মুড নিয়ে এখানে এখন কাজ করার কোন সুযোগ নেই। এটি এখন পুরোদস্তুর একটি পেশা। আপনি চাকুরী বা ব্যবসা করার পেছনে যতটা মনযোগ, অর্থ, সময়, মেধা ব্যয় করবেন তার কোন অংশ এখানে কম দিতে পারবেন না।
















কখন ইউটিউবিং করবেন?

আগেই বলেছি ইউটিউবিং এখন পেশা। তাই পেশার মানসিকতা নিয়েই এখানে আসতে হবে। আমার দৃষ্টিতে এটি ইউটিউবিং অন্যান্য পেশার চেয়েও অনেক কঠিন, কারণ এখানে টিকতে হলে শুধুমাত্র একটি বিষয় নয় বরং অসংখ্য বিষয়ে পারদর্শী হতেই হবে। আবার সেই সাথে কনটেন্ট ক্রিয়েট করার মন মেধাবী ও ধৈর্য্যশীলও হতে হবে। ইউটিউবিংয়ে আসার আগেই প্রথমে বুঝে নেবেন যে আপনার ইউটিউবে আসার মতো কনটেন্ট ক্রিয়েট করার ক্ষমতা আছে কিনা। কেউ একজন কোন এক ধরণের ভিডিও বানিয়ে সফল হলেই আপনি সে ধরণের ভিডিও বানাতে শুরু করবেন না বা করার চেষ্টা করবেন না। আপনি যে বিষয় ভালো বুঝেন বা ভালো পারেন সেটি নিয়েই কাজ করুন। যদি এমন কোন বিষয় না থাকে তাহলে শুধুমাত্র টাকার জন্য ইউটিউবে ঝাঁপ দেবেন না। উদাহরণ হচ্ছে আমাদের দেশের দুজন বিমান নিয়ে কনটেন্ট বানায়, এর মধ্যে একজন বিমান সংক্রান্ত প্রফেশনাল, এবং সে খুবই ভালো বোঝে তাই তার এই বিষয়ে ইউটিউবিং করা একদমই ঠিক আছে। আবার আরেকজন প্রফেশনাল না হলেও বিমানের প্রতি তা চরম ভালোবাসা এবং আবেগ আছে, তাই তার জন্যও ঠিক আছে। কিন্তু আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তারা ভালো করছে বলে আমিও যদি শুরু করি তাহলে সেটা নিশ্চিত ফ্লপ, কারণ ওটা আমার ট্র্যাকই নয় বা আমার ভালো লাগাও নয়। আবার আমার জন্য বিষয়গুলো সহজলভ্যও নয়। তাই ইউটিউবিং করার আগে যে বিষয় নিয়ে কাজ করবেন তার প্রতি আপনার জানাশোনা, ভালোলাগা ও সহজলভ্যতা কতটুকু সেটা নির্ধারণ করে নেবেন। এ বিষয়ে ঘাটতি থাকলে আসবেন না। অহেতুক সময় নষ্ট হবে। কারোটা কপি করেও টিকে থাকা যায়না। আবার অনেক সময় নিজের ভালোলাগা বিষয়গুলো ইউটিউবিং এর সাবজেক্ট কিনা সেটাও অনেকে বুঝে ওঠেনা। ধরুন আপনার বাড়ি হাওড়ের পাশে, প্রতিদিন সকালে হাওড়ে জাল টানা হয়। আপনি দাড়িয়ে দাড়িয়ে মাছ ধরা উপভোগ করতে পছন্দ করেন। তাহলে এটিও আপনার ইউটিউবিং এর সাবজেক্ট বটে। এভাবেই অনেক অতি সাধারণ কিন্তু আপনার ভালোলাগার ও সহজলভ্যতার কারণে সেটাই ইউটিউবিং। মনে রাখবেন যে বিষয়টি আপনার ভালো লাগে সে বিষয়টি আরো কোটি মানুষেরও ভালোলাগার বিষয় হতে পারে। কিন্তু এর কোন প্রকার কোন কিছু খুঁজে না পেলে ইউটিউবিং করবেন না। এই অংশে এসে আমি শুনতে বাজে মনে হলেও একটি তেতো কথা বলছি। যদি আর্থিকভাবে সফল হতে চান তাহলে কখনোই ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কাজ করবেন না। পরকালের বা ধর্মের চিন্তা করে করলে আলাদা বিষয়। তবে সফল হওয়ার জন্য ধর্মই সবচে বড় অন্তরায়। ধরুন আপনি ওয়াজ-মাহফিল বা পুজা নিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন। তাতে করে প্রথমেই আপনি একটি ধর্মীয় বিভেদ টেনে দিয়ে বড় অংশের দর্শক হারালেন। মাছ ধরার ভিডিও হয়তো হিন্দু-মুসলিম সবাই নির্বিশেষে দেখবে কিন্তু ওয়াজের ভিডিও হিন্দু-খ্রিষ্টানদের দেখার কোন মানে নেই বরং শত্রুতা তৈরী হয়ে আপনার পথচলার কাঁটা হতে পারে। আবার ধর্মীয় বিষয়গুলো বাংলা ভাষায় হওয়ায় সেখানেও বড় মাপের দর্শক হারাবেন। মাছ ধরা হয়তো স্প্যানিশ ভাষার কেউ দেখবে কিন্তু কীর্তন সে দেখবেনা। তাই বিষয় নির্ধারণের আগে এর আগ-পাছ, ভালো-মন্দ, পুর্বাপর ভেবে নিয়ে শুরু করবেন যে এগুলোর ইমপ্যাক্ট কি হতে পারে। দর্শক প্রিয় হলেও এমন কোন ভিডিও বানাতে যাবেন না যা আমাদের সামাজিকতার সাথে যায়না। যেমন ভিয়েতনামি অর্ধনগ্ন মেয়েদের মাছ ধরার ভিডিও এ দেশে বসে বানাতে যাবেন না। তাতে করে সামাজিকভাবে এবং পারিবারিকভাবে হেয় হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে বিতাড়নের শিকার হতে পারেন। তখন ছেড়েদে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হবে। ভাদাইম্যার এডমিনের কথা নিশ্চই ভুলে যাননি।
















এবারে টেকনিক্যাল যে বিষয়গুলো নিয়ে আপনি প্রস্তুতি নিবেন সেগুলো নিয়েই প্রথমে বলছি। আপনাকে যে ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জানতে হবে তা হলো স্টিল গ্রাফিক্স, মোশন গ্রাফিক্স, ভিডিও এডিটিং, টাইপিং। এ কাজগুলো করতে হলে আপনার কয়েক মাস বা বছর লেগে যেতে পারে। যদি ইউটিউবে আসতে চান তাহলে নিশ্চই আপনাকে এগুলো ভালোভাবে জেনে আসতে হবে। ইউটিউবিং গ্রুপ করে করার মতো সামর্থ্য আমাদের দেশে এখনো অনেক কম তাই এখানে সবাই ওয়ান ম্যান আর্মি। টেকনিক্যাল জায়গা থেকে আপনাকেই ভিডিও শ্যুট করতে হবে আবার আপনাকেই এডিট করতে হবে। এরপর গ্রাফিক্স, আপলোড, এসইও সবই আপনার করতে হবে। তাই এর কোন অংশই না শিখে আসতে পারবেন না। যদি অন্যকে দিয়েও করান তাহলেও আপনার জানা থাকতে হবে, কারণ আপনার চ্যানেলের কোয়ালিটিও আপনাকেই কন্ট্রোল করতে হবে। তাই গ্রাফিক্স বা এডিটটা ঠিকমতো হলো কিনা তা জানতে হলেও আপনাকে বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞাত থাকতে হবে। আবারো একটি তেতো বা দ্বিমতীয় কথা বলছি। অনেকে একটি মোবাইল থাকলেই ইউটিউবিং শুরু করে দেন। কাইন মাষ্টার বা এরকম কিছু এপস দিয়ে ভিডিও এডিট করে কোনমতে আপলোড করে দেন। হ্যা আপনাকেই বলছি, আপনি শুধুই সময় নষ্ট করছি। মনে রাখবেন মনিটাইজেশন অন করাই সফলতা নয় বরং টিকে থেকে ভালো কিছু অর্জন করে পরিবার ও নিজের জন্য কিছু করতে পারাটা ইউটিউবিং। শুধু মোবাইল দিয়ে ইউটিউবিং করে সফল হওয়া এখনকার সময়ে প্রায় অসম্ভব। কারণ এখন ২০১৯ এ এটি একটি পেশা। যদি আপনার যথেষ্ট প্যাশন থাকে এবং সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে কষ্ট করে হলেও একটি ডেস্কটপ বা পিসি নিন। এতটুকুর সামর্থ্য না থাকলে আপাতত ইউটিউবিং নয়। দু’একজন দ্বিমত করে বলতে পারেন ভাই আমিতো মোবাইল দিয়ে করেই এতোদুর এসেছি। আমার বক্তব্য হচ্ছে এতোদুর এসে কত কামালেন? যতো কামালেন ততটা আপনার নষ্ট করা সময়ের চেয়ে যথেষ্ট নয়। আর ততটাই যদি কামাতে পারতেন তাহলে পিসিই কিনে নিতেন। ভুল বলিনি নিশ্চই।
কিভাবে শিখবেন এসব জটিল বিষয়। উপায় হচ্ছে ইউটিউব। ইউটিউব থেকেই শিখবেন এবং দেখে দেখে প্রাকটিস করুন। কঠিন সাধনা করুন। টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যদি শিখে ফেলেন তাহলে ইউটিউবিং এ সফল না হলেও ভবিষ্যতে এগুলো আপনার জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। আমার দৃষ্টিতে নিচের সিরিয়ালে শেখা উচিত বিজয় কীবোর্ড, এমএস অফিস, ফটোশপ, ইলাষ্ট্রেটর, প্রিমিয়ার, আফটার এফেক্টস। এই কয়েকটা আপনাকে শিখতেই হবে। লাইট ক্যামেরা শেখার জন্যও ইউটিউবই মুল শিক্ষক।


আজকের কথাগুলো ইউটিউবের কোন টিপস বা ট্রিকস নয়। বরং ইউটিউবিং কাদের করা উচিত এবং কাদের করা উচিত নয় সে বিষয়ে একটি ধারণা মাত্র। আমার কথা হচ্ছে টাকা আছে বলেই এখানে আসবেন না, কারণ আগের দিন এখন আর নেই। যারা ঠিকমতো ধাপগুলো পুরণ করে কাজ করতে পারবেন বা পেরেছেন তাদের আর অন্য কিছু নিয়ে জীবনে চিন্তা করতে হয়না। কারণ ইউটিউব আসলেই প্রচুর টাকা দেয় যা এদেশে চাকুরীর চেয়ে আসলেই অনেক ভালো। তবে তা সবার জন্য নয়, যারা আগের ধাপগুলো পুরণ করে আসবেন শুধু তাদের জন্যই। আরো এতো টাকা যেহেতু দেয় তাই একটু সাধনাতো লাগবেই। নয়কি?
ভালো থাকবেন সবাই। গঠনমুলন সমালোচনা গ্রহণীয় এবং কোন বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। আমিও আপনাদের মতোই শিখছি, তাই ভুল হলে মার্জনীয়।
হ্যাপি ইউটিউবিং।


No comments

Powered by Blogger.